উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর লাকসাম পশ্চিমগায়ের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ির পূর্ব দিকের প্রবেশপথ জবর দখলকারী সৈয়দ আলী এখনও বহাল তবিয়তে। এই পরিবারটি ওয়াকফ এস্টেটের অনেক সম্পদ জালিয়াতির মাধ্যমে ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে। যা আদালতে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে এসিল্যান্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তথ্য উপাত্ত দিয়ে উল্লেখ করেন।
এদিকে লাকসাম পৌরসভার পক্ষ থেকে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরে ঐতিহাসিক প্রবেশপথে প্রতিবন্ধকতা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সৈয়দ আলীকে চুড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে গত ৬মাসেও তা কার্যকর হয়নি। সৈয়দ আলী এখন নতুন করে পাঁয়তারা করছে নবাব ফয়জুন্নেছা মসজিদ ও পুকুর দখলের জন্য। জাতীয় জাদুঘর কতৃপক্ষ প্রতœতত্ত্বের গেজেটভুক্ত ঐতিহাসিক এই ১১ গম্মুজ মসজিদ পরিচালনা ও তত্বাবধানের জন্য লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাতে সৈয়দ আলীর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে লাকসামের বহুল আলোচিত সমালোচিত সৈয়দ আলী দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ দখল বানিজ্যে লিপ্ত ছিলেন। পলাতক সাবেক মেয়র আবুল খায়েরের ও সাবেক কাউন্সিলর দিদারের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। সম্প্রতি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির সদস্য মনোনীত হয়ে বিএনপির নামভাঙ্গিয়ে এখন আবার দখল বাণিজ্য শুরু করেছেন। নবাব পরিবারের সম্পত্তি দখলকারীদের আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণীর ওয়াকফ সম্পদ দখলে বিএনপিকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশে বিব্রত হয়েছে দলটি। এ বিষয়ে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকার আহবান জানিয়েছেন লাকসাম উপজেলা বিএনপি।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের প্রবেশপথ জনস্বার্থে উম্মুক্ত রাখতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক এবং লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি বলেন, “নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়িটি আমাদের ঐতিহ্য ও হেরিটেজ। এ নিয়ে কোনো আপোষ নেই। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ ওয়াকফ সম্পদ দখল করলে তার দায় বিএনপি নেবে না। ভূমিদস্যুরা বিএনপির কেউ নন।” বিএনপির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম বলেন, “বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ ওয়াকফ সম্পদ দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অপরদিকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. ফজলে আহমেদ তৈয়্যব, সাবেক জনপ্রশাসন সচিব এ.কে.এম. জাহাঙ্গীর হোসেন, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল, পৌর বিএনপির সভাপতি মজির আহমদ ও নবাব পরিবারের সদস্য ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জাদুঘরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা প্রশাসনকে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
লাকসাম প্রতিনিধি 














